নীলফামারীতে সৌরবিদ্যুতের আলোয় ঝলমল করছে গ্রামের পর গ্রাম…

Posted: February 24, 2011 in Uncategorized

নীলফামারী ডিমলার গ্রামাঞ্চলের মানুষ বিদ্যুত্ না পেয়ে সৌরবিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করেছে তাদের বাড়িসহ গ্রাম এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সড়ক যোগাযোগ হতে বিছিন্ন থাকা বিদ্যুিবহীন টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের কুপি আর হারিকেনের আলো জ্বালিয়ে অন্ধকারে পড়ে থাকা মানুষগুলোর বাড়িতে এখন সৌরবিদ্যুতের আলো ঝিলমিল করছে। হাট-বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ হচ্ছে গভীর রাত পর্যন্ত। বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তারা সৌরবিদ্যুত্ প্যানেল কিনেছে। ফলে বিদ্যুত্ সুবিধা পেলেও এনজিওর ঋণ পরিশোধ করতে তারা আজ হিমশিম খাচ্ছে।
নীলফামারী জেলা সদর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে ডিমলা উপজেলার যোগাযোগবিহীন প্রত্যন্ত ইউনিয়ন খালিশাচাপানী টেপাখড়িবাড়ি ও পূর্বছাতনাই। আধুনিক প্রায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই এলাকার মানুষ। এখানকার বেশিরভাগ মানুষই তিস্তা নদী থেকে মাছ ধরে ও নদীর তলদেশ থেকে পাথর তুলে জীবিকা নির্বাহ করে। বছরের ৯ মাসই বন্যার পরে বালুচর হয়ে ভেসে ওঠা জমিতে কোনো ফসল ফলে না। বর্ষা ও শুকনো মৌসুমটা কাটে প্রায় একই রকম। ধু-ধু বালুচরে অনেক কষ্টে ভূট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, গম ও টমেটো চাষ করে কৃষকরা। সন্ধ্যার পর গ্রামের মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। রাত যত বাড়ে ততই এ তিন ইউনিয়নের গ্রাম আর হাট-বাজারগুলো অন্ধকারে এক ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এখন ওই তিন ইউনিয়নের কমপক্ষে ৫০টি গ্রাম সৌরবিদ্যুতের আলোয় ঝলমল করছে। সরকারি বিদ্যুত্ সরবরাহ ছাড়াও তারা রেডিও, টিভি ও মোবাইলের মাধ্যমে এখন দেশ-বিদেশের খবর শুনতে পারছেন।
টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের পূর্বখড়িবাড়ি গ্রামের কোরবান আলীর স্ত্রী হাজেরা খাতুন, রফিকুল ইসলামের স্ত্রী বানেচা খাতুন, তিস্তা বাজারের রমজান আলীর ছেলে সিদ্দিকুল আলমসহ অনেকেই জানিয়েছেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের সময় এলাকায় বিদ্যুতায়নসহ অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নেয়। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পরে তারা সেই প্রতিশ্রুতির কানাকড়িও বাস্তবায়ন করে না। স্বাধীনতার ৪০ বছর পার হলেও এই এলাকায় বিদ্যুতায়ন হয়নি। এ কারণে অন্ধকারে না থেকে নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন এনজিওর কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তারা কিনেছে সৌরবিদ্যুত্ প্যানেল। যার যতটুকু সামর্থ্য তারা সেভাবেই নিয়েছে সৌরবিদ্যুতের সংযোগ। সৌরবিদ্যুত্ না পেলে যোগাযোগবিহীন এলাকায় কুপির তেল কিনতে যেতে হতো প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে। এলাকাবাসী জানান, এ এলাকায় বিদ্যুতের জন্য তারা স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারদের কাছে অনেকবার ছুটে গেছেন কিন্তু কাজ হয়নি। এদিকে উপকূলীয় বা চরাঞ্চলের মানুষের ঘরে সৌরবিদ্যুত্ সংযোগে ব্যাংক থেকে ঋণ দেয়ার নিয়ম থাকলেও এসব মানুষের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s